সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পূজার সময় ঝলমলে, উজ্জ্বল চুলের জন্য ঘরেই করে নিন হেয়ার স্পা

পূজার সময় ঝলমলে, উজ্জ্বল চুলের জন্য ঘরেই করে নিন হেয়ার স্পা

কবির বর্ণনায় সেই ‘কোমন দোলনো মুক্ত বেণী’ হাল ফ্যাশানে এক্কেবারে অচল। তবে চুল নিয়ে চুলচেরা পরীক্ষা নিরিক্ষা চলে আসছে আদিম যুগ থেকেই৷ এযুগের ফ্যাশন সচেতন ললনাও চুল নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। আর চুলের সমস্যা সমাধানে প্রথম সারিতেই জায়গা করে নিয়েছে হেয়ার স্পা। রোদ, বৃষ্টি, ধুলা, দূষণে চুল যেন তার সতেজতা হারিয়ে ফেলে একবার বাইরে বের হলেই। এখন পূজার সময় সেখানে ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা কিংবা বন্ধুদের সাথে বেড়ানো থাকবে প্রায় সপ্তাহ জুড়ে। তাই এইসময়ে ঝলমলে আর উজ্জ্বলতার জন্য চুলের একটু বাড়তি যত্ন না করলেই নয়।

পার্লারে হেয়ার স্পা করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না, সময়ের অভাবে কিংবা অন্য কোনো ঝামেলায়। পার্লারে গিয়েই যে হেয়ার স্পা করাতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ঘরে বসেও চাইলে চটজলদি হেয়ার স্পা করে নেয়া যায় সহজেই। ঘরেই হেয়ার স্পা করলে আপনার সময় যেমন বেঁচে যাবে তেমনি অর্থও সাশ্রয় হবে।

চিত্রঃ ঝলমলে, উজ্জ্বল চুলের জন্য পূজোর আগে করে নিন হেয়ার স্পা
 ঝলমলে, উজ্জ্বল চুলের জন্য পূজোর আগে করে নিন হেয়ার স্পা
স্পা করার আগে অবশ্যই চুল শ্যাম্পু করে নিন। এতে চুল পরিষ্কার হবে। চুল পরিষ্কার থাকলে হেয়ার কন্ডিশনিংয়ের উপকরণগুলো সহজে চুলের গোড়ায় প্রবেশ করবে। ঘরোয়াভাবে তৈরি হেয়ার স্পা আপনার রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য চমৎকারভাবে কাজ করতে পারে। এই স্পা'র সাহায্যে আপনি চুল পরিষ্কার, ময়েশ্চারাইজ ও ঝলমলে করে তুলতে পারেন।

হেয়ার স্পা'র উপকরণঃ

অলিভ অয়েল
নারিকেল তেল
ক্যাস্টার অয়েল
ভিটামিন ই ক্যাপসুল
ডিম
কলা/নারিকেল দুধ/লেবু
মধু
টক দই
বড় তোয়ালে
বড় দাঁতের চিরুনি
শ্যাম্পু
হেয়ার কন্ডিশনিংয়ের উপকরণ ইত্যাদি।

জেনে নিন ঘরোয়া উপায়ে হেয়ার স্পা করার পদ্ধতিঃ

হেয়ার স্পার জন্য ৫টি ধাপ হলো– ম্যাসাজিং, স্টিমিং, ওয়াশিং, কন্ডিশনিং এবং হেয়ার মাস্ক লাগানো।
চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে কি করবেন।

প্রথম ধাপ- চুলে তেল ম্যাসাজ করুনঃ

প্রথমে নারকেল তেলের সাথে ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল মিশিয়ে কিংবা ২/৩ ধরণের তেল যেমন অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল ইত্যাদি একসাথে মিশিয়ে হাল্কা গরম করে নিয়ে তা দিয়ে খুব ভালো করে মাথার ত্বক ও চুল ম্যাসাজ করে নিন ৫-১০ মিনিট। অয়েল মাসাজের ফলে মাথার তালুতে ও ত্বকে রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধি পায়। চুল নরম ও মসৃণ হয়।

দ্বিতীয় ধাপ-গরম ভাপ দিনঃ
ঘরেই হেয়ার স্টিম করে নিতে পারবেন হট টাওয়েল পদ্ধতিতে, পার্লারে গিয়ে স্টিমারে যেমন ফল পেতে পারতেন ঠিক তেমনই ফল পাবেন। একটি বড় তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে চিপে পানি ঝড়িয়ে নিন। এবার তোয়ালেটি দিয়ে আপনার মাথা ভালো করে বেঁধে নিন। পেঁচিয়ে ভাপ নিন চুলে ১৫-২০ মিনিট। এটিই মূলত স্টিম করা।

তৃতীয় ধাপ- চুলে শ্যাম্পু করুনঃ
তৃতীয় ধাপে আপনি চুল খুব ভালো যে কোনো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে চুলের তেল চলে যাবে। আপনি চাইলে তেল দিয়ে পুরো রাত রেখে দিতে পারেন। শ্যাম্পু হালকা গরম পানিতে গুলে তা দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এতে ফেনা বেশি হয়। তবে খেয়াল রাখবেন পানি যাতে খুব বেশি গরম না হয়। এতে চুল পড়ার আশঙ্কা থাকে।

চতুর্থ ধাপ-কন্ডিশনার ব্যবহার করুনঃ
শ্যাম্পু করার পরে আপনার চুলের জন্য মানানসই কন্ডিশনার লাগান। কন্ডিশনার চুল করে তুলবে মোলায়েম ও সিল্কি। তবে কন্ডিশনার চুলের গোড়ায় লাগাবেন না। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে চুল পড়ে যেতে পারে। আপনি কন্ডিশনার হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদান ও ব্যবহার করতে পারেন যেমন- চা ও লেবুর কন্ডিশনার। তার জন্য গরম পানিতে চা পাতা দিয়ে কয়েক মিনিট সিদ্ধ করুন। তারপর ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর একটি লেবুর রস চিপে নিয়ে চাপাতার পানিতে মিশান। তৈরি হয়ে গেলো আপনার কন্ডিশনার। এই তরল কন্ডিশনার দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে নিন।

পঞ্চম ধাপ-হেয়ার মাস্ক লাগানঃ
এ পর্যায়ে হেয়ার মাস্ক প্রস্তুত করুন। এটি হেয়ার স্পা'র সবশেষ ধাপ। এটি আপনার চুলে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে নরম কোমল করে তোলে। আপনি আপনার পছন্দের যেকোন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। হেয়ার ট্রিটমেন্ট প্যাক লাগান, বাজারে অনেক ভালো হেয়ার ট্রিটমেন্ট প্যাক কিনতে পাওয়া যায়। যদি প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করতে চান তাহলে খুব ভালো হয় যদি এই প্যাক কিনতে পারেন। আপনি মার্কেট থেকে হেয়ার মাস্ক কিনতে না চাইলে নিজেই বাসায় প্রস্তুত করে নিতে পারেন। হেয়ার মাস্ক অনেক রকম হতে পারে। যেমনঃ

১। ২ টি ডিম, নারকেল তেল ও ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল ভেঙে একসাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। আর এমনিতে শুষ্ক-রুক্ষ ও নিস্তেজ চুলের জন্য একটি পাকা কলা ভালো করে ম্যাশ করে নিয়ে এতে অলিভ অয়েল ও ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল ভেঙে ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগাতে পারেন। এরপর প্যাকটি ২০ মিনিট চুলে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন ভালো করে।
২। পাকা কলা, মধু, টক দই,  লেবুর রস এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এটি চুলে লাগিয়ে রাখুন ২০মিনিট। তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।
৩। আধা কাপ নারিকেল দুধের সাথে একটি ডিমের সাদা অংশ ( তৈলাক্ত চুল)/ ডিমের কুসুম (শুষ্ক চুল)/ পুরো ডিম (সাধারণ চুল) মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক বানিয়ে নিন। এই হেয়ার মাস্ক পুরো চুল ও স্কাল্পে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। ব্যাস হয়ে গেল হেয়ার স্পা।

হেয়ার স্পার উপকারিতা
* হেয়ার স্পা ট্রিটমন্ট চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বককে উর্বর করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে
* মাথার ত্বক তৈলাক্ত রাখতে সাহয্য করে৷ তাতে খুসকি হওয়ার সম্ভাবনা কমে৷
* মস্তিষ্কে সেল মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে এবং রক্ত চলাচল ঠিক রাখে৷
* চুল কালার বা অন্য কারণে রুক্ষ হয়ে যায়, স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে, এ অবস্থায় হেয়ার স্পা অপরিহার্য।
* সুন্দর, আকর্ষণীয়, ঝলমলে সিল্কি চুলের জন্য হেয়ার স্পার কোনও বিকল্পই নেই।
* মাথার রক্ত সঞ্চালন গতি স্বাভাবিক রাখে। যে কোনও বয়সেই আপনি হেয়ার স্পা করাতে পারেন। এতে যেমন আপনার চুল সুস্থ থাকবে তেমন ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবে শরীর, মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পাবে মন আর আপনি হয়ে উঠবেন উচ্ছল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।