সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রতিদিন কতটুকু এবং কিভাবে টক দই খাওয়া যায়?

প্রতিদিন কতটুকু এবং কিভাবে টক দই খাওয়া যায়? 

দই পছন্দ করেনা এমন মানুষ কমই আছে। কারণ এটি একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ও মজার খাবার। দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে দই সবচেয়ে সহজে পাওয়া যায়। অঞ্চলভেদে এর আলাদা ঐতিহ্য আছে। অনেকে মনে করেন, দই চর্বিহীন খাদ্য। এ ধারণা ভুল। দইয়ে দুধের সমানই চর্বি থাকে। মিষ্টি দইয়ে চিনি মিশানো হয় বলে ক্যালরি দুধের চেয়ে বেশি থাকে। তবে অন্যান্য উপাদান একই থাকে।
টক দই আমাদের শরীরের জন্য নানা ধরনের কাজ করে থাকে। নিয়মিত টক দই খেলে তা দেহকে নানাভাবে উপকার করে। টক দইয়ে আছে আমিষ, ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি। টক দইয়ে থাকে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া যা স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। এতে দুধের চেয়েও বেশী ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম ও পটাশ আছে। দইতে থাকা ব্যাক্টেরিয়া হজম প্রক্রিয়ার জন্য ভালো। তাছাড়া দাঁত ও হাড়ও মজবুত করে। তবে দই খাওয়ারও কিছু নিয়ম আছে। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক প্রতিদিন কখন, কতটুকু দই খাওয়া যাবে আর কিভাবে টক দই খাওয়া যায়।
চিত্রঃকখন, কিভাবে খাবেন টক দই
কখন, কিভাবে খাবেন টক দই

প্রতিদিন কখন, কতটুকু টক দই খাওয়া যাবেঃ

* একবারে এক কাপ টক দই খাওয়া যায়। বেশি বেশি কোনকিছুই ভালো নয়। টক দইয়ের ক্ষেত্রেও কথাটা প্রযোজ্য। সারাদিনে একচামচ করে কিছুক্ষণ পর পর টাক দই খেতে পারেন বা একবারে এক কাপ খাবেন

* রাতে দই খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। কফ বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থাকলে রাতে দই না খাওয়াই ভালো। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে রাতে দই খাওয়া ঠিক নয়। কেননা এটি মিউকাস বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে কেউ চাইলে দইয়ের বদলে ঘোল খেকে পারেন।

* দিনের বেলায় দই খেলে তা চিনি ছাড়া খান এবং যদি রাতে দই খেতে চান তবে তাতে চিনি অথবা কালো গোলমরিচ মিশিয়ে খান। এটি হজমে সাহায্য করে এবং পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

* কখনই গরম দই খাওয়া ঠিক নয়। গুনগত মানের জন্য বাড়িতে বানানো দই খাওয়া উচিত।

* বাজার থেকে কেনার আগে দই এর উৎপাদন এবং মেয়াদ দেখে কিনুন। নাহলে পেটের পীড়া,বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি হতে পারে। এক্ষেত্রে উপকারের চেয়ে ক্ষতিটাই হবে বেশি।

কিভাবে টক দই খাওয়া যায়ঃ 

টক দই বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। যেমন- বোরহানি, লাচ্ছি, সালাদে, রান্নায় এমনকি টক দইয়ের সঙ্গে ফল, মধু, বাদাম ইত্যাদি মিশিয়েও খাওয়া যায়। চলুন কিভাবে জেনে নেয়া যাক কিভাবে খাওয়া যায় টক দইঃ

১। বোরহানি হিসেবে
টক দই খাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে বোরহানি করে খাওয়া। টক দইয়ের ভিতর বিট লবন, গোল মরিচ গুঁড়া, পুদিনাপাতা বাটা, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা বোরহানি খেতে যেমন অসাধারন তেমনি স্বাস্থ্যকরও বটে।
এছাড়া স্বাদ অন্যরকম করতে তেতুলের রস ও জিরা গুঁড়াও মেশানো যায় বোরহানির সাথে। টক দইয়ের ভিতর সবকিছু দিয়ে হ্যান্ড বিটার দিয়ে ভাল করে ফেটে বা ব্লেন্ডারে দিয়ে বোরহানি তৈরি করা যায়।

২। সালাদের সাথে
টক দই আরও খাওয়া যায় সালাদের সাথে। টমাটো, শসা, গাজর ইত্যাদি কেটে টক দই মিশিয়ে তার সাথে বিট লবন, গোল মরিচের গুঁড়া যোগ করে খেতে হবে।
এছাড়াও বিভিন্ন ফল কেটে টক দই সহযোগেও খাওয়া যায়। দুটো পদ্ধতিই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

৩। দই চিড়া
টক দই, ধুয়ে রাখা চিড়া, লবন, সামান্য চিনি মিশিয়ে ও খাওয়া যায়। এছাড়া ১ চামচ মিষ্টি দই এবং কলা, চিড়া মিশিয়ে ও খাওয়া যায়। এটি পেটের জন্য বেশ ভালো খাবার। তাছাড়া গরমের দিনে দই চিড়া খাওয়া বেশ স্বস্তিদায়কও।

৪। দইয়ের সঙ্গে চিনি
দইয়ের সঙ্গে এক চামচ চিনি মিশিয়ে খান, সারাদিন ভালো কাটবে।

৫। ঘোল বা লাচ্ছি
প্রতিদিন দই খেতে চাইলে লাচ্ছিকে বেছে নিতে পারেন। সকালে এক গ্লাস ঘোল অনেক স্বাস্থ্যসম্মত।

৬। রাইতা 
এটি একটি ভারতীয় খাবার। চাইলে এতে পেঁয়াজ, শসা, টমেটো ও অন্যান্য ভেষজ উপাদান মিশিয়ে নিতে পারেন, যা স্বাস্থ্যকরও বটে।

৭। কাধি
ঘোলের সঙ্গে বেসন মিশিয়ে একটি মুখরোচক কারি বানাতে পারেন যা ‘কাধি’ নামে পরিচিত। আপনি ভাতের সঙ্গে এই ‘কাধি’ খেতে পারেন।

৮। দই কালিজিরা 
দই-কালোজিরার মিশ্রণ নিয়মিত খেলে এক মাসে ১৫ কেজির মতো ওজন কমবে। এক চা চামচ কালোজিরাগুঁড়ো আর এক গ্লাস পাতলা টক দই ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে রাতে শোওয়ার আগে খেতে হবে। এই মিশ্রণ শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে কমে যায় মেদের পরিমাণ এবং দ্রুত হ্রাস পায় শরীরের ওজন।

৯। রান্নায় টক দই
প্রতিদিন যেসন খাবার রান্না করা হয় স্বাদ বাড়াতে তার মদ্ধে চাইলেই ১ টেবিল চামচ দই ব্যবহার করা যায়। ছাড়া মাংস রান্নায় ও টক দই ব্যবহার করা হয়।

১০। সস এর বিকল্প হিসেবে
ভাজাপোড়া জাতীয় নাস্তায় সস বানানোর জন্য যেসব উপকারন ব্যবহার করা হয় তার মদ্ধে দই অন্যতম। বাসায় মেয়নিজ এর পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় টক দই।

যেভাবেই টক দই খাওয়া হোক না কেন মূল কথা হচ্ছে এটি ভীষন উপকারি। নিয়মিতভাবে টক দই খেলে আমাদের শরীর থাকবে অনেক রোগমুক্ত, সতেজ ও স্বাভাবিক। যা প্রতিটি মানুষেরই কাম্য।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।