সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঘরোয়াভাবে তৈরি করুন প্রাকৃতিক হেয়ার স্পা মাস্ক

ঘরোয়াভাবে তৈরি করুন প্রাকৃতিক হেয়ার স্পা মাস্ক

রূপচর্চার অনন্য এক পদ্ধতি স্পা। শুধু ত্বক নয় চুলের যত্নে এই স্পা সমান কার্যকরী যা ‘হেয়ার স্পা’ নামেই এর পরিচিতি। হেয়ার স্পা চুলের ও মাথার ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান করে। ত্বকে চুলকানোর সমস্যা থাকলে অর্থাৎ স্পর্শকাতর স্কাল্পে হেয়ার স্পা করতে পারেন। তৈলাক্ত চুলের সমস্যা কমাতেও হেয়ার স্পা সমানভাবে কার্যকরী। অতিরিক্ত শুষ্ক চুল, ভাঙ্গা চুল, খুশকির মতো সমস্যায় স্পা খুব উপকারী। অতিরিক্ত দূষণের কারণে বেশি আয়রনযুক্ত পানিতে চুল ধোঁয়ার ফলে চুলের অবস্থা খারাপ হলেও স্পা করতে পারেন, চুল পরা রোধেও হেয়ার স্পা বেশ কার্যকরী। হেয়ার স্পা শুধু চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না। স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে।
চিত্রঃপ্রাকৃতিক হেয়ার স্পা মাস্ক
প্রাকৃতিক হেয়ার স্পা মাস্ক

হেয়ার স্পার জন্য ৫টি ধাপ হলোঃ ম্যাসাজিং, স্টিমিং, ওয়াশিং, কন্ডিশনিং এবং হেয়ার মাস্ক লাগানো।

হেয়ার মাস্ক,  এটি হেয়ার স্পা'র সর্বশেষ ধাপ। এটি আপনার চুলে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে নরম কোমল করে তুলবে। আপনি আপনার পছন্দের যেকোন মাস্ক/প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি চাইলে বাজারে হেয়ার স্পার প্যাক পাওয়া যায় সেটাও লাগাতে পারেন। তার থেকে আপনি ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক যেকোন হেয়ার স্পা মাস্ক। ঘরোয়াভাবে তৈরি হেয়ার স্পা মাস্ক আপনার রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য চমৎকারভাবে কাজ করতে পারে। এই স্পার সাহায্যে আপনি চুল পরিষ্কার, ময়েশ্চারাইজ ও ঝলমলে করে তুলতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিছু প্রাকৃতিক  হেয়ার মাস্ক তৈরি পদ্ধতি।

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক-১
২ টি ডিম নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগান। এবার কসুম গরম পানিতে ভিজানো টাওয়াল পেঁচিয়ে রাখুন চুলে। এভাবে ২০ মিনিট রাখুন তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি সব ধরণের চুলের জন্য প্রযোজ্য।
চিত্রঃঘরোয়াভাবে তৈরি করুন হেয়ার স্পা মাস্ক
ঘরোয়াভাবে তৈরি করুন হেয়ার স্পা মাস্ক

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক-২
১টি পাকা কলার সাথে অলিভ অয়েল, ডিম, মধু, দুধ ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক -৩
পাকা কলা, মধু, টক দই, এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এটি চুলে লাগিয়ে রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক -৪
২ টেবিল চামচ নারকেলের দুধ ও ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে নিন। চুলে লাগিয়ে ভালো করে ম্যসাজ করুন। ১০ মিনিট রেখে চুল শ্যাম্পু করে নিন।

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক -৫
একটি পাত্রে ১ টি পাকা কলা চটকে এরমদ্ধে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে নিন। মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক -৬
এই প্যাক তৈরি করতে ২ টি ডিমের সাদা অংশ, ১ টেবিল চামচ মধু ও ২টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মেশান। চুল যদি অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যায়, তবে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। ৩০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নিন।

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক -৭
২ টেবিল চামচ মধু, ৩ টেবিল চামচ টক দই একসাথে মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক হিসেবে চুলে লাগাতে পারেন। তারপর ২০-৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

হেয়ার স্পা মাস্ক/প্যাক -৮
২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ৪ টেবিল চামচ টক দই একসাথে মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক হিসেবে চুলে লাগাতে পারেন। তারপর ২০-৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।


হেয়ার স্পা'র মাস্ক তৈরির নিয়মটা তো জেনে গেলেন। সপ্তাহে একবার করে ১৫ দিন এভাবে চুলের যত্ন নিন। আর পার্থক্যটা নিজের চোখে দেখুন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।