সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি করুন ঘরোয়া স্ক্রাব

চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি করুন ঘরোয়া স্ক্রাব

চালের গুঁড়া মানেই তো পিঠাপুলি তৈরির অন্যতম উপকরণ। তবে দৈনন্দিন রূপচর্চায়ও এর কার্যকারিতা কম নয়। কারণ, চালের গুঁড়া এমন একটি উপকরণ, যা সব ধরনের ত্বকের জন্য উপকারী। ত্বক পরিষ্কার করতে চালের গুঁড়া খুব কাজে দেয়। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

চালের গুঁড়া, ছবিঃ সংগ্রহীত
চালের গুঁড়া, ছবিঃ সংগৃহীত
চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি করুন ঘরোয়া স্ক্রাবঃ

১। চালের গুঁড়া ত্বকে প্রাকৃতিক স্ক্রাবের কাজ করে। চালের গুড়ার সাথে সামান্য লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে মুখে ৫ মিনিট স্ক্রাব করুন। এরপর ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। লোমকুপের ময়লা বের করে আনতে এটি অতি উত্তম স্ক্রাব। এটি ত্বককে নরম ও মসৃণ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এই উপাদান ত্বকের কালচে দাগ দূর করে ত্বক ফর্সা করে।

২। চালের গুঁড়ার সঙ্গে মধু ও টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক পুরো মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের কালচে দাগ দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

৩। মরা কোষের কারণে ত্বক অনেক মলিন হয়ে যায়। মধু অথবা অলিভ অয়েলের সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এভাবে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের মরা কোষ দূর হয়ে ত্বক নরম ও মসৃণ হবে।

৪। তৈলাক্ত ত্বকে চালের গুঁড়া ব্যবহার করতে চাইলে শুধু পানি মিশিয়ে নিলেই হবে। তবে শুষ্ক ত্বকে চালের গুঁড়া সরাসরি ব্যবহার না করাই ভালো। এ ক্ষেত্রে মধু, ক্যাস্টর অয়েল অথবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন; যা শুষ্ক ত্বকের স্বাভাবিকতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

৫। ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি চালের গুঁড়া মুখের ব্ল্যাক হেডস, নাকের দুই পাশের মরা কোষ তুলতে সাহায্য করে। সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ত্বকে আলাদা করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু চালের গুঁড়া দিয়ে মুখ পরিষ্কারের পর আর আলাদা করে ময়েশ্চারাইজিংয়ের প্রয়োজন হয় না।

টিপসঃ

** জোরে জোরে ঘষতে যাবেন না এতে হিতে বিপরীতও হতে পারে। রোজ রোজ এটা করতে যাবেন না এতে ত্বকের উপকারের চাইতে ক্ষতি হয়ে যাবে।

** চালের গুঁড়া এখন বাজারে কিনতে পাওয়া গেলেও বাড়িতেই তা তৈরি করে নেওয়া ভালো। এ জন্য চাল ভিজিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর ভালো করে পানি ঝরিয়ে তা ব্লেন্ডারে দিয়ে দিন।

**চালের গুঁড়া সংরক্ষণের জন্য তা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। তবে গুঁড়া যদি হলদে বর্ণ ধারণ করে, তবে তা আর ব্যবহার করা যাবে না।

** সব ধরনের চালের গুঁড়া যে ত্বকে ব্যবহার করা যাবে তা কিন্তু নয়। শুধু আতপ চাল ও কালিজিরা চালের গুঁড়া ভালো স্ক্রাবিংয়ের কাজ করে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।