সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে

পোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে 

আমাদের সবার গায়ের রং এক রকম নয়। কারো ফর্সা, কারো কালো, কারো তামাটে বা কারো শ্যামলা। কেউ হয়তো চিকন আবার কেউ বা মোটা। কিছু কিছু রং আমাদের সবাইকে মানিয়ে যায়। আবার কিছু কিছু রং গায়ের রঙের সাথে একটু মিলিয়ে পরতে হয়। আমাদের দেশে প্রচলিত কথা হচ্ছে ফর্সা মেয়েটিকে যে কোন ড্রেসেই সুন্দর দেখায় আর কালো মেয়েদের কোন রঙেই ভালো লাগেনা। কালো গায়ের রং হলে সব রঙের পোশাক পরা যাবে না। ব্যপারটা কিন্তু আসলেই তা নয়। ফর্সা, কালো, শ্যাম বর্ন, চিকন কিংবা মোটা শুধু একটু সাজিয়ে গুছিয়ে পরতে পারলে যেকোন রঙ ই আপনার জন্য পারফেক্ট হতে পারে।
চিত্রঃপোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। ছবিঃসংগৃহীত
পোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। ছবিঃসংগৃহীত
গায়ের রং যখন ফর্সাঃ সবার ধারণা গায়ের রং যদি উজ্জ্বল হয়, সব রং-ই পরা যায়, জামার ডিজাইন যেমন-ই হোক না কেন। বাস্তবে ব্যাপারটি কিছুটা ভিন্ন। ব্যক্তিভেদে পোশাকের রং নির্বাচন করা উচিত। ফর্সা রঙের মেয়েদের গাঢ় রঙের চেয়ে হালকা রঙে বেশি মার্জিত লাগে। ফর্সারও ধরণ আছে। সাদা ফর্সা, গোলাপি ফর্সা, হলদে ফর্সা। সাদা ফর্সাদের হালকা রঙের পোশাকে বেশি ভালো লাগে। গাঢ় হালকার মিশ্রণেও ভালো মানায়। গোলাপি বা লালচে ফর্সাদের মাঝামাঝি গাঢ় রং কিংবা হালকা- দুটোই মানায়। হলদে ফর্সাদের মোটামুটি সব রং-ই মানিয়ে যায়।

গায়ের রং যখন শ্যামলাঃ যেকোন রং নির্বাচন করার আগে আয়নায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিন, আপনাকে মানাচ্ছে কিনা। এমন রং নির্বাচন করা উচিত যাতে আপনাকে উজ্জ্বল দেখাবে। শ্যামলা রঙের মেয়েদের জন্যে বাসন্তি, হলুদ, ডিমের কুসুম হলুদ, হালকা কমলা, মেরুন, সাদার সাথে লালের কম্বিনেশন, হালকা সবুজ-এই রঙগুলো সহজেই মানিয়ে যায় আর উজ্জ্বল লাগে। কালচে বেগুনি অর্থাৎ ঘন গাঢ় বেগুনি, নীল, গাঢ় ঘন কালচে সবুজ ইত্যাদি রং পরলে গায়ের রং আরও ডার্ক মনে হতে পারে। তবে কালচে নেভি ব্লু তে শ্যামলাদের ভালো লাগে।

গায়ের রং যখন কালোঃ গায়ের রং একটু কালোর দিকে হলে অনেকেই পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক ঝামেলায় পড়েন। হয়তো ভাবেন কোন রং-ই মানাচ্ছে না। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। যেকোন রং-ই আপনি পরতে পারেন, তবে পরার আগে আয়নায় পোশাকটি গায়ের উপর ধরে একটু দেখে নিন, আপনাকে কেমন মানাচ্ছে। গায়ের রং কালো হলেও চেহারা আকর্ষণীয় আর একটু চিকন ধাঁচের হলে যেকোন পোশাকেই আকর্ষণীয় লাগে। যদি ডার্ক রঙের পোশাক পরতে চান তবে সাজসজ্জা টা একটু হালকা করতে হবে, কম গয়না পরতে হবে। ওড়না যদি রংচঙে হয়, জামাটা হালকা রঙের হতে পারে। এভাবে নিজের মতো করে মিলিয়ে নিতে হবে। যেকোনো রং-ই বুঝে পরা যেতে পারে। তবে খুব চোখে লাগে এমন কোনো রং ব্যবহার না করাই ভালো। কটকটা লাল রং টা সাধারণত দৃষ্টিকটু লাগে।

গড়ন যদি হয় চিকনঃ একটু ভারী কাপড়ের ফোলা কাপড় পরতে হবে। গায়ে লেগে থাকে এমন কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ পরবেন না। শাড়ির ক্ষেত্রেও এমন শাড়ি পরবেন যা একটু ফুলে ফেঁপে থাকে। ভারী কাজের, গাঢ় রঙের- সবই তারা পরতে পারেন, এতে স্বাস্থ্য একটু ভালো দেখাবে। ছাপার পোশাকের ক্ষেত্রে বড় বড় ছাপার ড্রেস নির্বাচন করুন। কিন্তু কখনই গায়ে লেগে থাকে এমন পোশাক পরবেন না,এতে আরও রোগা দেখাবে।

মাঝারি গড়ন যাদেরঃ মাঝারিরা সব ধরনের পরতে পারলেও, এমন সালোয়ার-কামিজ পরবেন না যা বেশি ফুলে থাকে। এতে করে খানিকটা মোটা লাগতে পারে। শাড়ির ক্ষেত্রে বেশি ফুলে থাকে এমন শাড়ি, যেমন – টিস্যু বা মসলিন পরলে স্বাস্থ্য ভারী মনে হবে। তারা মোটামুটি সব কাজের সব প্রিন্টের শাড়িই পরতে পারেন।

গড়ন মোটার দিকে হলেঃ ফুলে থাকে এমন মচমচে কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ পরবেন না। শাড়ির ক্ষেত্রে গোলগাল মেয়েরা অবশ্যই ফুলে থাকে এমন শাড়ি কিংবা খুব ভারী কাজের যেসব শাড়ির পুরো জমিনে কাজ ভর্তি – এমন শাড়ি পরবেন না। এতে আরও মোটা দেখাবে। মোটা গড়নের মেয়েরা শরীরের সাথে লেগে থাকে এমন শাড়ি নির্বাচন করবেন। বেশি গাঢ় রঙের শাড়ি পরলেও মোটা লাগবে। ভারী জরি পাড় ধরনের শাড়িতেও মোটা লাগবে। কাতান পরলে শুধু পাড়-আঁচলে কাজ করা বা মাঝে হালকা ছিট ছিট কাজ করা শাড়ি পরুন। সিফন হলে কিছুটা ভারী কাজের পরতে পারেন। কেননা এ শাড়িগুলো শরীরে লেগে থাকে। টিস্যু, মসলিন, ফুলে থাকা শাড়ি মোটেই পরবেন না। প্রিন্টের শাড়ি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। মোট কথা নিজেকে বেশি মোটা লাগে- এমন শাড়ি কখনো পরা উচিত নয়।

উচ্চতা অনুযায়ীঃ আপনার উচ্চতা কম হলে সালোয়ার বা প্যান্ট খুব বেশি ঢোলা পরবেন না, তাতে আরও খাটো দেখাবে। টাইটস, লেংগিস বা জেংগিস পরতে পারেন কামিজের সাথে। উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের পোশাক পরবেন না। লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন।
লম্বা যারা তারা একটু খাটো পোশাক পরতে পারেন। একেবারে লং না পরে সেমি লং পোশাক পরতে পারেন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় জংলী প্রিন্টের পোশাক বেছে নিন।

টিপসঃ
* আপানার গায়ের রং, উচ্চতা, ওজন সবকিছুর সাথে মিলিয়েই পোশাক নির্বাচন করুন।
* অনেকের থাই মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে টাইট সালোয়ার না পরে, সেমি ফিট বা ঢোলা সালোয়ার পরা উচিত। তাদের লেগিংস এড়িয়ে চলাই ভালো।
* অনেকের হাত শুধু মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে ছোট হাতার পোশাক না পরে কোয়ার্টার বা লং হাতার পোশাক পরা উচিত।
* মোটা হলে শাড়িতে কুচি একটু কম দিতে হবে, আঁচল বড় রাখতে হবে। চিকন হলে কুচি বেশি দিতে হবে।
* ব্লাউজ এর ক্ষেত্রে যারা মোটা,তারা ছোট প্রিন্টের বা চেকের স্ট্রেইট কাটের থ্রিকোয়ার্টার ব্লাউজ পরতে পারেন।
* যাদের কাঁধ চওড়া তারা ভি শেপ এর গলা দিতে পারেন। এতে চওড়া কম দেখাবে।

এভাবে আপনার গড়ন, গায়ের রং, ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন। তথ্যসূত্রঃ সাজগোজ ডট কম

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।