সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অনেক নারীরই রয়েছে বক্ষবন্ধনী (ব্রা) নিয়ে কিছু ভুল ধারণা!

অনেক নারীরই রয়েছে বক্ষবন্ধনী (ব্রা) নিয়ে কিছু ভুল ধারণা!

নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পোশাকের মদ্ধে অন্যতম হচ্ছে বক্ষবন্ধনী বা ব্রা। আকর্ষণীয় ও সঠিক মাপের ব্রা সবাই পছন্দ করে। কেননা ভুল মাপের ব্রা নারীদের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয় শুধু তাই নয়, এটা শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। তবে ব্রা বিষয়ে নারীদের মাঝে বহু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এই ধারণাগুলো মাথায় নিয়ে ব্রা ব্যবহারে নানা নিয়ম পালন করতে দেখা যায় নারীদের। ভুল ধারণার কারণে ব্রা ব্যবহারে নারীরা স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন। তাহলে জেনে নেয়া যাক, ব্রা বিষয়ক কিছু প্রচলিত ভুল ধারণার কথা যেগুলা শুধুই গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়।
চিত্রঃব্রা নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা। ছবিঃ সংগৃহীত
ব্রা নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা।
১। নিয়মিত ব্রা পড়লে স্তন ক্যান্সার হয়ঃ  নব্বইয়ের দশকে একটি ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে, ব্রা স্তন ক্যান্সার ঘটায়। টাইট ব্রা পড়ে থাকলে তা বিষাক্ত উপাদানকে আটকে রাখে এবং ক্যান্সার সৃষ্টি করে। তবে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানিয়েছে, এ গবেষণায় বিষয়টি সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই ব্রা পড়লে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

২। ব্রা পরে ঘুমালে স্তনের আকার আকার আকর্ষণীয় হয়ঃ অনেকের ধারণা,ব্রা পরা অবস্থায় ঘুমালে স্তনের আকার ভালো থাকে। এটি সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। সারাদিন ব্রা পরে থাকলেও তা স্তনের আকারে কোনো প্রভাব ফেলে না। ব্রা পরে ঘুমালেও তা যে স্তনের আকার ঠিক রাখবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। স্তনের আকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান ও স্তন্যদান করা। এছাড়া বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই স্তন ঢিলে হয়ে যাবে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়।

৩। ব্রা পরার কারণে স্তন পাশ থেকে ঝুলে পড়েঃ ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, নিয়মিত ব্রা পরলে তাতে স্তনের আকার পাশ থেকে ঝুলে পড়তে পারে। এতে দাবি করা হয় স্তনের আকার ধরে রাখার মাংসপেশিগুলো ব্রা ব্যবহারের কারণে কার্যকারিতা হারায় এবং এতে তা নরম হয়ে পড়ে। ফলে সহজেই ঝুলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও অন্য গবেষকরা বলছেন, এ ঘটনার বাস্তব ভিত্তি নেই। কারণ স্তনে রয়েছে ত্বক, ফ্যাট ও লিগামেন্ট। মাংসপেশি এতে নেই। এটি মূলত বক্ষকে ধরে রাখতে সহায়তা করে। এটি পরা না পরার সাথে স্তনের আকার নষ্ট হবার কোন সম্পর্ক নেই।

৪। ব্রা-র সাইজ সব ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই একরকমঃ অনেকেরই ধারণা ব্রা-র সাইজ সব ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই একি হবে। যে সাইজের ব্রা আপনার সঠিক সাইজের মনে হচ্ছে, তা অন্য ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সঠিক নাও হতে পারে। কারণ বিভিন্ন ব্র্যান্ড বিভিন্ন আকারে ব্রা তৈরি করে। এক্ষেত্রে আপনার সঠিক মাপমতো ব্রা বেছে নিতে তাই পরে দেখার বিকল্প নেই। ব্রা কতটা ভালো তা হয়তো ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করতে পারে, তবে সাইজ আপনার জন্যে দেখে নিতে হবে।

৫। নতুন ব্রা সর্বশেষ হুকে ফিট হওয়া উচিতঃ অধিকাংশ ব্রা-তে তিনটি হুক থাকে। নতুন ব্রা কেনার জন্য তা কোন হুকটিতে ফিট হবে তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বহু নারীরই ধারণা নতুন ব্রা শেষ হুকে ফিট হবে। যদিও বাস্তবতা হলো ব্রা যদি মাঝের হুকটিতে ফিট হয় তাহলেই তা কেনা উচিত।

৬। হালকা রংয়ের ব্রা বেশি ভালঃ অনেকের ধারণা, হালকা রংয়ের ব্রা পোশাকের ওপর দিয়ে স্পষ্ট হয়ে থাকে না। এ জন্যে সাদা রংয়ের ব্রা পড়তে বেশি আগ্রহ দেখা যায় নারীদের মধ্যে। কিন্তু কালো পাতলা পোশাকের উপর দিয়েও সাদা ব্রেসিয়ার দেখা যেতে পারে। তাই ত্বকের রংয়ের ব্রা সবচেয়ে মানানসই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

৭। ওয়াশিং মেশিনে ব্রা ধোয়া উচিতঃ ব্রা যদি ওয়াশিং মেশিনে অত্যন্ত কড়া করে ধোয়া হয় তাহলে ব্রার আকার নষ্ট হতে পারে। তাই ডিটারজেন্ট পাউডার ব্যবহার করে ঠাণ্ডা পানিতে হাতে করে ধোয়া যেতে পারে। এতে ব্রা বহুদিন ভালো থাকবে। কারণ মেশিনে ওয়াশের সময় এর কাপড়ের নমনীয়তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এবড়ো খেবড়ো কাপড় স্তনের নমনীয় ত্বকের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে।

৮। একটি ব্রা বহুদিন ব্যবহার করা যায়ঃ কোনো ব্রা-ই চিরদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। এক্ষেত্রে সাধারণ একটি নিয়ম হলো এক বছর। আপনি যদি নিয়মিত ব্রা পরেন তাহলে তা এক বছরের বেশি পরা উচিত নয়। তবে তা যদি মাঝে মাঝে পরেন তাহলে তা সর্বোচ্চ তিন বছর ব্যবহার করতে পারবেন। ছবি ও তথ্যঃ সংগৃহীত

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।