সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঘরেই বসেই করুন নখের যত্ন

ঘরেই বসেই করুন নখের যত্ন

আমাদের হাত ও পায়ের সৌন্দর্যের এক অন্যতম অংশ নখ। হাত বা পায়ের দিকে তাকালে প্রথমে সবার চোখ পড়ে নখের দিকে। সুন্দর নখ হাতকে যেমন আকর্ষনীয় করে তেমনি পা’কে করে মনকাড়া। পরিচ্ছন্ন নখ শুধু হাত-পায়ের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না। একইসঙ্গে এটি ব্যক্তিত্বও তুলে ধরে। ঝাঁ তকতকে, ঝকঝকে, আকর্ষনীয়, সুন্দর নখ কার না পছন্দ।
নারীদের জন্য হাতের নখের সৌন্দর্য রক্ষা করা একটু কঠিন। নখ সুন্দর রাখতে পানির ব্যবহার যত কম করা যায় ততই ভাল। কিন্তু নারীদের প্রায় সব কাজেই পানির ছোঁয়া আছে। একটু ইচ্ছা এবং সচেতন থাকলেই সম্ভব নখের যত্ন নেওয়া। সময় কিংবা অর্থের কারণে যারা পার্লারে গিয়ে নখের পরিচর্চা করতে পারেন না তারা ঘরে বসেই নিতে পারেন যত্ন। তাই আসুন জেনে নেই নখের যত্নের কিছু করণীয়।
চিত্রঃঘরে বসেই করুন নখের যত্ন
ঘরে বসেই করুন নখের যত্ন
১। নখের যত্ন নেয়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে হবে। যেমন- নেইল কাটার, নেইল ফাইল, নেইল হার্ডনার, অলিভ অয়েল, ব্রাশ, হ্যান্ডক্রিম, বাফার, সল্ট, স্যাভলন, লেবু ও হালকা গরম পানি।
চিত্রঃনখের যত্ন
২। একটি পাত্রে উষ্ণ গরম পানি নিয়ে তাতে শ্যাম্পু, লেবু, সল্ট, স্যাভলন মিশিয়ে, নখগুলি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো ভিজিয়ে রেখে ব্রাশ দিয়ে ঘষতে হবে। ঘষা হয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নিন।
চিত্রঃনখের যত্ন
৩। এরপর নেইল কাটার দিয়ে নখের অতিরিক্ত অংশ কেটে কিছুক্ষন পড়ে নেইল ফাইল দিয়ে ঘষে নখ চাহিদামতো আকারে নিয়ে আসতে হবে। এতে আপনার নখ শক্ত থাকবে। সহজে ভাঙবে না।
চিত্রঃনখের যত্ন
৪। এবার বাফার দিয়ে নখের ওপরের লেগে থাকা ময়লা ঘষে পরিষ্কার করে নিলে, এতে নখের হলদেটে ভাব দূর হবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়বে। আপনার পছন্দমতো ময়েশ্চারাইজিং লোশন দিয়ে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন।

চিত্রঃনখের যত্ন
৫। মাসে অন্তত দুবার ম্যানিকিউর, পেডিকিউর করতে হবে। সম্ভব হলে ম্যানিকিউর, পেডিকিউর প্রতি সপ্তাহে একবার করা ভালো। সাপ্তাহিক যত্নের পাশাপাশি প্রতিবার গোসলের সময় ছোট ব্রাশ নিয়ে নখ ঘষে পরিষ্কার করে নিন। এতে নখের সমস্যা অনেকখানি কমে যাবে।
চিত্রঃনখের যত্ন
৬। লেবুর রস নখের রং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে লেবুর রস নিয়ে কিছুক্ষণ নখ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেললেই নখের রং স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই পদ্ধতি বার বার অনুসরণ করলে নখের হলদেভাব কমে আসবে।
চিত্রঃনখের যত্ন
৭। রাতে ঘুমানোর আগে নখে পেট্রোলিয়াম জেলি এবং অলিভ অয়েল মালিশ করে নিলে নখ শক্ত হয়। যাদের নখ বেশি নরম তারা রাতে ঘুমানোর আগে পুরু করে পেট্রোলিয়াম জেলি মালিশ করে মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। এতে নখ শক্ত হবে। এছাড়া নখ কখনও অতিরিক্ত বড় করা ঠিক নয়। এতে নখ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
চিত্রঃনখের যত্ন
৮। নেইলপলিশ দিয়ে নখ রাঙাতে পছন্দ করলেও কিছু দিনের বিরতিতে নেইলপলিশ লাগানো উচিত। সবসময় নেইলপলিশ ব্যবহার না করাই ভালো। এতে নখের স্বভাবিক রং নষ্ট হয়ে যায়। দু-সপ্তাহ অন্তর নেইল পলিশ ফেলে কয়েকদিন নখ এমনই রেখে দিন। এতে নখে আলো-হাওয়া লাগে, যা নখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। একবার নেইলপলিশ ওঠানোর অন্তত দুদিন পর আবার লাগাতে হবে। অবশ্যই ভালো মানের এবং ভালো ব্র্যান্ডের নেইলপলিশ বেছে নেওয়া উচিত। কারণ সস্তা নেইলপলিশে সিসা থাকে যা নখের জন্য ক্ষতিকর।

৯। শুধু বাইরের যত্ন নয়, ভেতর থেকে যত্ন নিতে ভিটামিন বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার খান। কারণ পুষ্টির অভাবেও নখ ভেঙে যায়।

১০। দাঁত দিয়ে নখ কাটা অথবা নখের চারপাশের চামড়া কাটার বদ অভ্যাস যত তাড়াতাড়ি ছাড়তে পারবেন ততই ভালো।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে। 

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...