সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নখের যত্নে করণীয়

নখের যত্নে করণীয়

হাত বা পায়ের দিকে তাকালে প্রথমে সবার চোখ পড়ে নখের দিকে। পরিচ্ছন্ন নখ কেবল হাত-পায়ের সৌন্দর্যটাই বাড়িয়ে তোলে না, একইসঙ্গে এটি ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। ঝকঝকে, আকর্ষনীয়, সুন্দর নখ সবার পছন্দ।

নখ সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য পেডিকিওর-মেনিকিওর এবং পাশাপাশি নখের পরিচর্চা করা ও জরূরি। সেই সাথে মেনে চলুন কিছু নিয়ম কানুন। আর এই আর্টিকেল আপনাকে সাহায্য করবে জানতে কিভাবে সুন্দর নখ পাওয়া যেতে পারে এবং সেই জন্য কি কি আপনার করনীয়।
চিত্রঃনখের যত্নে করনীয়
নখের যত্নে করনীয়। ছবিঃসংগৃহীত
১। নখ ভাঙার সমস্যা থাকলে প্রতি সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে নখ ও আঙুল ম্যাসাজ করলে নখ ভাঙা কমে যাবে। এ ছাড়া প্রতিদিন রাতে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিয়ে নখ ম্যাসাজ করুন।
২। নখ ভাঙা থেকে রেহাই পেতে নেইল হার্ডনার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ১ বার নখ ফাইল করুন। যাদের নখ দুর্বল তারা মেটাল ফাইলার ইউজ না করে পেপার ফাইলার ইউজ করলে ভাল।
৩। পুষ্টির অভাবে নখ ভেঙে যেতে পারে। ভিটামিন বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার খাবেন। খাদ্যতো পুষ্টি যোগাবে ভেতর থেকে আর বাইরের যত্নও নিতে হবে আপনাকে।
৪। অনেক সময় সবজি কাটলে নখে কালো দাগ পড়ে। কাটা লেবু ঘষলে নিমিষেই কালো দাগ দূর হয়ে যায়।
৫। নখে এক সপ্তাহের বেশি নেইলপলিশ লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। মাঝে অন্তত দুই দিন বিরতি দিয়ে আবার নেইলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত নেইলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করলে নখ ড্রাই হয়ে যায়।
৬। হাতের নখ কামড়ানো বন্ধ করতে হবে। সেটা যদি কন্ট্রোল না করা যায় তাহলে বাজারে কিছু তিক্ত স্বাদের নেইল পলিশ আছে সেগুলো লাগালে ২য় বার ভুলেও আঙ্গুল মুখে দিবেন না সিওর।
৭। শক্ত নখের জন্য প্রতিদিন ১ গ্লাস দুধের বিকল্প কিছুই নেই।
৮।  নখের জিনের উপর নখ ভাঙ্গাটা নির্ভর করে তাই নখ ফাইল করার সময় একই ডিরেকশনে নখ ফাইল করুন, বিভিন্ন ডিরেকশনে ফাইল করলে নখ ফাঁটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৯। পানি পান করুন পর্যাপ্ত তাতে আপনার নখের সাথে সাথে শরীরও ভাল থাকবে। নখে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
১০। নখের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিউটিকল একটি বড় ভূমিকা পালন করে তাই তার দিকেও একটু নজর দিন। কিউটিকল ভাল রাখার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে ভ্যাসলিন বা অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। সম্ভব হলে কিউটিকল অয়েল ইউজ করুন।
১১। লেমন জুস বা দুধের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য নখ ডুবিয়ে রাখতে পারেন তাতে নখে ক্যালসিয়াম বাড়বে যদিও এগুলো খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। হালকা গরম দুধ নখ সাদা করতেও সাহায্য করে।
১২। ভিটামিন ই শুধু চুলের জন্যই ভাল না, এটি নখের বৃদ্ধির জন্যও ভালো তাই নখের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ই যুক্ত খাবার অথবা ট্যাবলেট গ্রহণ করুন।
১৩। নেইল পলিশ লাগানোর আগে বেইজকোট বা নখ শক্ত করে এমন বেইজকোট লাগানো জরুরী। এটা নখ বাড়তেও সাহায্য করে। প্রতিবার নেইল পলিশ উঠানোর সময় নখকে ময়েশ্চারাইজ করুন তাতে রিমুভার ব্যবহারের ধকল কিছুটা সামলানো যাবে।

নখের যত্নে সবচেয়ে বড় কথা হলো শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো একেও ভালবাসুন। নখের আর কি হবে এই ভাবনা না করে এর যত্ন নিন, কখনো কখনো নখও আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে। তাই মনোযোগী হন নখের প্রতিও।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।