সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অলিভ অয়েলের ধরণ এবং বিভিন্ন উপকারী ব্যবহার

অলিভ অয়েলের ধরণ এবং বিভিন্ন উপকারী ব্যবহার

মানুষের শরীরের শান্তির দূত হলো জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েল যা আরবিতে জয়তুন নামে পরিচিত। ভেষজ গুণে ভরা এই ফলটি লিকুইড গোল্ড বা তরল সোনা নামেও পরিচিত। গ্রীক সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকে এই তেল ব্যবহার হয়ে আসছে রন্ধন কর্মে ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। আকর্ষণীয় এবং মোহনীয় সব গুণ এই জলপাইয়ের তেলের মধ্য রয়েছে। এই তেলে এমন উপাদান রয়েছে, যেগুলো আমাদের শরীরকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখে। অলিভ অয়েল ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাটি এসিডে ভরপুর তাই শুধু হার্টের জন্য নয় পুরো মানব দেহের জন্যই উপকারী। এটি সেনসিটিভ স্কিনের জন্যও নিরাপদ। এটি পেটের জন্য খুব ভালো, শরীরে এসিড কমায়, লিভার পরিষ্কার করে। 
চিত্রঃঅলিভ অয়েলের ধরণ ও ব্যবহার
অলিভ অয়েলের ধরণ ও ব্যবহার
অনেক দেশে অলিভ অয়েল সাধারণত কেবল সালাদের তেল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। বহিরাগত সৌন্দর্য ছাড়াও অলিভ অয়েল আমাদের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য রক্ষায় অনেক বেশি উপকারী। দামে বেশি হলেও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বর্তমানে অনেকেই রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন বা করতে চান। এক্ষেত্রে অলিভ অয়েল সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা থাকা দরকার। কারণ, বিভিন্ন ধরণের অলিভ অয়েল আছে। এর স্বাদও ভিন্ন ভিন্ন। ব্যবহারও আলাদা। আসুন জেনে নিই অলিভ অয়েল কত রকমের হয়, কোন অলিভ অয়েল কী ধরনের রান্নার জন্য উপযুক্ত।

অলিভ অয়েলের ধরনঃ

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েনঃ
সবচেয়ে উচ্চ মানের অলিভ অয়েল হলো এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল। স্যালাড ড্রেসিং হিসেবে এই অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। সবজি রান্না করার জন্যও এই অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। মাখনের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও চলতে পারে এই অলিভ অয়েল।

ক্লাসিক অলিভ অয়েলঃ
যদি আপনি ভূমধ্যসাগরীয় বা কন্টিনেন্টাল রান্না করতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনার জন্য সেরা ক্লাসিক অলিভ অয়েল। হালকা ভারতীয় রান্নাতেও অন্য স্বাদ নিয়ে আসে এই তেল। পাস্তা, স্টার-ফ্রায়েড ভেজিটেবল বা রাইস তৈরির কাজে ক্লাসিক অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এই অলিভ অয়েল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ভালো কাজ করে। ফলে চুল ও ত্বকের জন্য ভাল এই অলিভ অয়েল। বাচ্চাদের মাসাজ করার জন্যও এই তেল উপকারি।

অলিভ পোমেস অয়েলঃ
এই অলিভ অয়েলের নিউট্রাল গন্ধ ও রঙের জন্য বাঙালি রান্নার পক্ষে আদর্শ। উচ্চ স্ফুটনাঙ্কের কারণে ডিপ ফ্রাইং-এর জন্য খুব ভালো এই তেল। পোলাও, পরোটা এমনকি পাকোড়াও তৈরি করতে পারেন এই তেল দিয়ে।

লাইট ফ্লেভার অলিভ অয়েলঃ
হালকা রং ও মৃদু গন্ধের জন্য সহজেই চেনা যায় এই অলিভ অয়েল। প্রতি দিনের রান্নায় অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন এই তেল। রোজকার ভারতীয় রান্না বা কন্টিনেন্টাল রান্না, যে কোনো রকম পদই তৈরি করতে পারেন লাইট ফ্লেভার অলিভ অয়েল দিয়ে। ভাজি, রান্না করা, রোস্ট বা বেকিং সব কাজেই ব্যবহার করা যায় এই অলিভ অয়েল।

অলিভ অয়েলের যত গুণগত ব্যবহারঃ

১। কোলেস্টরেল কমাতেও জলপাই তেল বিশেষ উপকার করে থাকে। আর তাই যাদের কোলস্টেরলের মাত্রাটা বেশি, তাঁদের জন্য জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই।

২। পায়ের যত্নে ১ চামচ লবণ নিয়ে তাতে পরিমাণ মত অলিভ অয়েল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করুন ও পায়ে ম্যাসাজ করুন। পা পরিষ্কার হবে সাথে সাথে পায়ে আরামবোধ ও হবে।

৩। সকালে নাস্তার আগে ২ চামচ অলিভ ওয়েল খেলে হজম শক্তি বাড়বে। নিয়মিত ব্যবহারে ওজন কমতে সহায়তা করে।

৪। শেভ করতে গেলেন আর দেখলেন শেভিং ক্রিম শেষ তখন কি হবে? শেভিং ক্রিমের বদলে ব্যবহার করুন অলিভ অয়েল। মসৃণ শেভ হবে এবং ত্বকও রুক্ষ হবে না।

৫। শুষ্ক ত্বকে মেকআপের সময় ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে ১/২ ফোঁটা অলিভ অয়েল মুখে মেখে নিন। এতে মেকআপ বসবে ভালো এবং মেকআপের পর ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে।

৬। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে হাতে ও পায়ে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। এতে পা ফাঁটা দূর হবে এবং হাত পা নরম এবং সতেজ থাকবে।

৭। অলিভ অয়েল হালকা গরম করে নখে দিয়ে রাখুন ৫-১০ মিনিট। এভাবে নিয়মিত করতে থাকলে নখ শক্ত হয়ে এবং নখ ভাঙ্গা রোধ হবে।

৮। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আপনার রিং ফিঙ্গার দিয়ে আলতো হাতে অলিভ অয়েল বুলিয়ে দিন। অতিরিক্ত তেল নরম টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিতে পারেন। চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর হবে।

৯। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন, তারপর মোজা পরে ঘুমান। পা ফাটার সমস্যা দূর হবে।

১০। যদি বাইরে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েলের প্রলেপ দিয়ে বের হওয়া যায় তাহলে সানট্যান থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়।

১১। অলিভ অয়েল ব্রণের বংশ ধ্বংস করার জন্য উপকারী। ৪ টেবিল চামচ লবণের সাথে ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ এক সপ্তাহ ব্রণ প্রতিরোধ হবে।

১২। প্রতিদিন সকালে কিছু খাওয়ার আগে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খেলে, কয়েকদিনের মধ্যেই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান হবে।

১৩। মাশকারার বদলে চোখের পাপড়ি, ভ্রূতে অলিভ অয়েল লাগান, আর বাড়িয়ে তুলুন আপনার চোখের সৌন্দর্য।

১৪। মাঝে মাঝে দেখা যায় বাড়ির কোন দরজা খুলতে বা বন্ধ করতে গেলে ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়ার করে। সে ক্ষেত্রে সংযোগ কব্জাগুলোতে কিছু অলিভ অয়েল দিয়ে দিন। আর শব্দ করবে না। লোহার যন্ত্রপাতি বা গ্রিলের মরিচা প্রতিরোধ করতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

১৫। ওটমিল, সামান্য ক্রিমের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে তা মুখ পরিষ্কারের স্কার্ব হিসাবে ব্যবহার করুন।

১৬। বাচ্চাদের ম্যাসাজের জন্য অলিভ অয়েলকে সেরা বলে ধরা হয়। শিশুদের নিতম্ব থেকে র‌্যাশ দূর করতে সামান্য অলিভ অয়েল মাখিয়ে দিন।

১৭। এক কাপ অলিভ অয়েলের সঙ্গে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে নিন। আসবাবপত্র পরিষ্কারের কাজে একে ব্যবহার করুন।

১৮। হাতের কালশিটে ভাব দূর করতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

১৯। ওয়াক্সিংয়ের পর হাত ও পায়ের চিটচিটে ভাব দূর করতে অলিভ অয়েল মাখুন।

২০। চুলকে স্থির করে রাখতে চাইলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন চুলে। মনে হবে যেন জেল দিয়েছেন।

২১। মৌচাক থেকে প্রাপ্ত মোমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি কৌটায় রেখে দিন। এটি পরে লিপজেলের কাজ করবে।

২২। চুলের কন্ডিশনার হিসাবে অলিভ অয়েল দারুণ কাজে দেয়। চুলে মেখে একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন।

২৩। ব্রাশগুলোকে চকচকে রাখতে এগুলো ধুয়ে অলিভ অয়েল পলিশ করুন।

২৪। মেকআপ মুছতে রিমুভার হিসেবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

২৫। দাঁতের যত্নেও দারুণ এক উপাদান অলিভ অয়েল ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।