সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার

ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার

প্রাচীনকাল থেকেই অলিভ অয়েল বহুল প্রচলিত। জলপাই থেকেই পাওয়া তেলই জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েল নামে খ্যাত। অলিভ অয়েল ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাটি এসিডে ভরপুর তাই শুধু হার্টের জন্য নয় পুরো মানব দেহের জন্যই উপকারী। এটি সেনসিটিভ স্কিনের জন্যও নিরাপদ। 
হেলেন অফ ট্রয় খ্যাত লেখক হোমার অলিভ অয়েলকে তরল সোনা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। 
অলিভ অয়েলের উপকারিতা কমবেশি সবার জানা। দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন উপায়ে আমরা এই তেল ব্যবহার করে থাকি। আজকাল বিভিন্ন কসমেটিকস কোম্পানিও অলিভ অয়েলের গুণের কথা মাথায় রেখে তাদের প্রসাধনী সামগ্রীতে এই তেলের ব্যবহার করছেন। তবে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিবেন আপনার বাছাই করা অলিভ অয়েলটির গুণগত মান। শুধু রান্নায় নয়, বরং  রূপচর্চা বা স্বাস্থ্য পরিচর্যায়ও এর ব্যবহার অতুলনীয়।অলিভ অয়েলের নাম শুনে কি চোখের সামনে তেল চটচটে একখানি মুখ ভেসে উঠছে? ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল ব্যবহার করেই দেখুন, আপনার ভ্রান্ত ধারণার অবশ্যই অবসান ঘটবে। চলুন জেনে নেয়া যাক ত্বকের যত্নে কিভাবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়।
চিত্রঃত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার
ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার
ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবেঃ  একটি ডিমের কুসুমের সাথে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল আর ৩ ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। তারপর মুখে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করে প্রথমে হালকা গরম পানি তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঠাণ্ডা পানি খুলে যাওয়া পোরস বন্ধ করে। নরমাল অথবা শুষ্ক ত্বকে এই মাস্ক আর্দ্রতা বজায় রাখবে সেই সঙ্গে নরম কোমল করে তুলবে।

ময়েশচারাইজার হিসেবেঃ অলিভ অয়েলে আছের লিকুইড এসিড, যা পানি বাষ্প হতে দেয়না। তাই ১/২ কাপ অলিভ অয়েল, ১/৪ কাপ ভিনেগার বা লেবুর রস আর ১/৪ কাপ পানি মিশিয়ে একটি সলিউশন তৈরি করে রাতে ঘুমানোর সময় নাইট ক্রিমের মত ব্যবহার করা যায়। অলিভ অয়েল ত্বক নরম করে, ভিনেগার ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

সান প্রোটেকশন হিসেবেঃ  অভিল অয়েলে ভিটামিন এ এবং ই আছে সেই সঙ্গে ৩ রকমের এন্টঅক্সিডেন্ট আছে, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। তাই যদি বাইরে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েলের প্রলেপ দেয়া হয় তবে সানট্যান থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যায়।

ব্রণ প্রতিরোধক হিসেবেঃ  শুনতে অবাক লাগলেও ব্রণের চিকিৎসায় তেলের ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অলিভ অয়েল ব্রণের বংশ ধ্বংস করার জন্য উপকারী। ৪ টেবিল চামচ লবণের সাথে ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সেই পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করলে এক সপ্তাহ পড়ে অবশ্যই পরিবর্তন দেখতে পারবেন। লবণ এক্সফলিয়েশন করে পোর পরিষ্কার করে আর অলিভ অয়েল মুখের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

এছাড়াও  শিশুদের গায়ে বিশেষ করে শীতের দিনে এই জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল অত্যান্ত উপকারী। এটি নিয়মিত ব্যবহারে শিশুদের ত্বক থাকে আরো কোমল ও মোলায়েম।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।