সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শাড়ি বুঝে ব্লাউজ নির্বাচন করুন

শাড়ি বুঝে ব্লাউজ নির্বাচন করুন

শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ মিলিয়ে পরার ক্ষেত্রে নারীদের জুড়ি নেই। মার্কেট থেকে পছন্দের কোনো শাড়ি কেনার সময়ই ব্লাউজের চিন্তা মাথায় ঢুকে। মানানসই রঙের ব্লাউজ না হলে শাড়ির সৌন্দর্যও যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আর তাই প্রত্যেক নারীর কাছে ব্লাউজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
যে ব্লাউজ ই পরুন না কেন সেটা যেন হয় আপনার বয়স, পরিবেশ এবং শরীরের মাপের সাথে মানানসই। তাই ব্লাউজের ক্ষেত্রে  আগে আপনার শাড়ির ধরণ বুঝে তারপরে ব্লাউজ নির্বাচনের  করুন।
চিত্রঃশাড়ি বুঝে ব্লাউজ নির্বাচন করুন
শাড়ি বুঝে ব্লাউজ নির্বাচন করুন। ছবিঃসংগৃহীত

১। জর্জেট, সিল্ক, মসলিনের মতো স্বচ্ছ শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ নিয়ে ভাবনাটা একটু বেশিই থাকে। এ ক্ষেত্রে বেছে নিন মখমলের ব্লাউজ।
২। মখমখ ফ্রেবিকসে এমনিতেই বেশ গর্জিয়াস লুক পাওয়া যায়। আরেকটু জমকালো চাইলে গলায় এমব্রয়ডারি নকশা হতে পারে। পেছনে বোতাম দিলে ব্যবহারে আরাম পাওয়া যাবে। পার্ল বা স্টোনের অর্নামেন্টাল বোতাম ব্যবহার করতে পারেন।
৩। একটু গাঢ় রঙের স্লিভলেস মখমল ব্লাউজ যেকোনো প্রিন্টেড শাড়ির সঙ্গে অনায়াসে মানিয়ে যাবে।
৪। একরঙা শাড়ির ক্ষেত্রে ব্লাউজের রঙের বিপরীতে যেকোনো শাড়িই মানানসই হবে। রাতের অনুষ্ঠানে গর্জিয়াস শাড়ির সঙ্গেও এই ব্লাউজ ব্যবহার হতে পারে। আবার দিনের দাওয়াতে আরামদায়ক ছিমছাম শাড়িকেও বাড়তি আভিজাত্য জোগাবে।
৫। ফ্যাশন ডিজাইনারের মতে , ‘সংগ্রহে একটা কাতান ব্লাউজ থাকলে শাড়ি-ব্লাউজ মানানসইয়ের চিন্তা করতে হবে না। বিশেষত দাওয়াত বা পার্টি সাজে বেনারসি বা কাতান তো বটেই; হাফসিল্ক, জামদানি, শিফন, পিওর সিল্ক এমনকি তাঁতের শাড়িতেও কাতান ব্লাউজ তুলনাহীন। এক রঙের বা প্লেইন পাড়ের শাড়ির সঙ্গে এ ব্লাউজ দারুণ ফুটবে।
৬। নকশাদার ছাড়াও দু-একটা একরঙা ব্লাউজ দরকার হয়। বিশেষ কোনো উপলক্ষ না থাকলে যেকোনো শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে যায় এসব ব্লাউজ। সে ক্ষেত্রে সুতির গতানুগতিক কাটের ব্লাউজের বদলে ভাবুন ভিন্ন কিছু।
৭। একরঙা জর্জেট ফেব্রিকস নিতে পারেন। গলা ও হাতায় কোল্ড শোল্ডার কাট আর ফ্রিলের ডিজাইন রাখুন। গলার কাছে ফ্রিলের নিচে কয়েকটা কুঁচি দিলে বেশ একটা ব্যতিক্রমী লুক আসবে।
৮। গলার ক্ষেত্রেও খুব আঁটসাঁট না হয়ে বড় কাটের গলা হলে ভালো। গলার কাটে ভিন্নতা আনতে মেট্রো, ওভাল বা পানপাতা শেপ হতে পারে। পেছনে বোতাম ও গলায় ফিতের সঙ্গে মানানসই স্টোন বা পার্লের নকশাদার টারসেল ব্লাউজে জমকালো লুক আনবে।
৯। প্রত্যেকের ব্লাউজের সংগ্রহে একটা সোনালি শেডের ব্লাউজ থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল গোল্ডেন না হয়ে একটু হালকা গোল্ডেন বা বিস্কিট গোল্ডেন রঙের ফেব্রিকস নির্বাচন করুন।
১০। ব্লাউজটা সব ধরনের উপলক্ষ মাথায় রেখে ডিজাইন করতে হবে। হাতায় ও গলায় ছিমছাম, মার্জিত অথচ অভিজাত নকশার জারদৌসি নকশা থাকতে পারে। ব্লাউজের পেছনের অংশের পুরোটাজুড়ে নকশা রাখুন।
১১। শাড়ি হাল্কা হলে আর ব্লাউজে বাড়তি জৌলুস যোগ করতে চাইলে গ্লাস ওয়ার্ক বা স্টোন রাখুন নকশায়। গলায় বোট কাট হতে পারে। কনুই অবধি হাফস্লিভের চল কখনোই পুরনো হয় না। ডিজাইন ও কাটিংয়ের সমীকরণ ঠিক থাকলে এই ব্লাউজটি সব সময় পরার উপযোগী হবে।
১২। তাঁতের শাড়ি ভালোবাসলে একটা সুতি চেক বা স্ট্রাইপের প্যাটার্ন ব্লাউজ বেশ কাজে দেবে। দৈনন্দিন যেকোনো উপলক্ষ থেকে শুরু করে দাওয়াত বা পার্টিতেও তাঁতের শাড়িতে গ্রহণযোগ্য করতে পারে এই ব্লাউজ।
১৩। চাইলে শিবুরি ডাই, টাইডাই ফেব্রিকসও বাছাই করতে পারেন। কাটিং প্যাটার্ন অবশ্যই ট্রেন্ডি হতে হবে। একটু ভিন্ন ধাঁচের স্লিভ, নিচের অংশে র্যাফেল অর্থাত্ ঢেউ খেলানো বায়াস কাট, হল্টারনেক বা হাইনেক বেশ ট্রেন্ডি লুক দেবে।
১৪। ফ্যাশনে হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ি এখন হটট্রেন্ড। সিল্ক বা মসলিনে হাতে আঁকা শাড়ির ব্লাউজে একটু চুজি হতেই হয়। সে ক্ষেত্রে এমন একটি গর্জিয়াস ব্লাউজ বানাতে হবে, যেন পেইন্ট ছাড়া অন্য শাড়িতেও মানিয়ে যায়।
১৫। এমব্রয়ডারি বা কারচুপি বা জারদৌসির ফুলেল নকশা রাখুন ডিজাইনে। শাড়ির পাড়ে ফ্রিল নকশা থাকলে ব্লাউজের বর্ডারেও ফ্রিলের নকশা রাখতে পারেন। শাড়িতে ফ্রিল না থাকলেও ব্লাউজের ফ্রিলের নকশা বেমানান লাগবে না।
১৬। এখন তো শাড়ির সঙ্গে রং না মিলিয়ে বিপরীত রঙের ব্লাউজ পরার চল। যারা সব সময় একই কাটের ব্লাউজ পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেক্ষেত্রে তারা ভিন্নতা আনতে নজর দিন ব্লাউজের কাপড় ও নকশায়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে। 

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...