সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তুলে রাখা কাপড়ের যত্ন নেয়ার উপযুক্ত সময় এখনি

তুলে রাখা কাপড়ের যত্ন নেয়ার উপযুক্ত সময় এখনি 

বর্ষার শেষ এবং শীতের আগে এখনই উপযুক্ত সময় ঘরে তুলে রাখা কাপড় চোপড়ের দিকে নজর দেয়ার। বর্ষাকালে সাধারণত সংরক্ষিত কাপড়চোপড় স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে আর আলমারিতে রাখা কাপড়ে ফাঙ্গাস পড়ে। তাছাড়া আদ্র আবহাওয়ায় বাক্সে তুলে রাখা কাপড় গুলোও ছত্রাকের আক্রমনে পড়ে হারাতে পারে ঔজ্জ্বল্য আর স্থায়ীত্ব। সঠিক যত্নের অভাবে নষ্টও হয়ে যেতে পারে আপনার ঈদ কিংবা বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার দামি জামা কাপড়গুলো। বর্ষার মাঝে যেমন কাপড়ের যত্ন নেয়া সম্ভব হয়না তেমনি শীতের মৃদু তাপের হালকা রোদেও তা সম্ভব হয় না। তাই ভেজা মৌসুমে কাপড়ের বাড়তি যত্ন নিতে কেউ ভুলবেন না তাই তুলে রাখা পছন্দের এবং প্রয়োজনীয় কাপড়ের উপযুক্ত যত্নের সময় এখনই।
চিত্রঃতুলে রাখা কাপড়ের যত্ন নেয়ার উপযুক্ত সময় এখনি।
তুলে রাখা কাপড়ের যত্ন নেয়ার উপযুক্ত সময় এখনি। ছবিঃ সংগৃহীত
১। আলমারিতে তুলে রাখা কাপড়ের যত্ন নিশ্চিত করতে অবশ্যই কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। কাপড়ের ভাঁজ খুলে পুরো কাপড়ে রোদ লাগাতে পারলে ছত্রাক বা পোক মাকড়ের উপদ্রব কমবে।

২। যদি আলমারিতে রাখা কাপড়ে ছাতা বা ফাঙ্গাস পড়েই যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে তা ধুয়ে ফেলুন। শুধু ধুলেই হবে না, শুকানোর পর কড়া ইস্ত্রি করে তারপর আলমারিতে কাপড় তুলে রাখুন। কারণ ধোয়া কাপড় কড়া ইস্ত্রি করে রাখলে ফাঙ্গাস বা ছাতা পড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

৩। অল্প ভেজা বা ঠাণ্ডাভাব লেগে থাকা কাপড় কখনো আলমারিতে রাখবেন না। শুকনা কাপড় কড়া ইস্ত্রি করে তারপর রাখুন।

৪। ভেজা আবহাওয়ার কারণে অনেকসময় সাদা কাপড়ে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। যাকে তিলা পড়াও বলে। এই দাগ একবার পড়লে আর উঠে না। তাই তিলা যাতে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৫। কাপড় আলমারিতে রাখার আগে আলমারিতে ন্যাপথ্যালিন অথবা নিমপাতা দিয়ে নিন, এতে করে কাপড়ে পোকা ধরবে না।

৬।
দীর্ঘ সময়ের জন্য কাপড় কিংবা পোশাক সংরক্ষণ করতে হলে ভালোভাবে ধুয়ে, শুকিয়ে, ইস্তিরি করে রাখতে হবে। মাড় দেওয়া কাপড় বেশি দিন তুলে রাখলে পোকা ধরে যেতে পারে।

৭। আকৃতি ও ব্যবহারভেদে কাপড়চোপড় আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে। ব্লাউজ, অন্তর্বাস, রুমাল, শার্ট, ন্যাপকিন প্রভৃতি ছোট কাপড় যেন বড় কাপড় যেমন- শাড়ি, বিছানার চাদর প্রভৃতির সঙ্গে মিলে না যায়।

৮। অনেকসময় আলমারিতে পুরান কাপড়ের একটা গন্ধ হয়। এটা দূর করতে ওডোনিল বা এয়ারফ্রেশনার ধরনের কোনো সুগন্ধি আলমারিতে রাখুন। এতে ভেতরটা সুন্দর গন্ধে ভরে থাকবে।

৯। সুতি ও লিনেন কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করে, ভালোভাবে শুকিয়ে ইস্তিরি করে কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে তারপর নির্দিষ্ট স্থানে তুলে রাখতে হবে।

১০। পশমি কাপড় যদি ময়লা হয় তাহলে পোকার উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই পশমি কাপড় সুন্দর করে ধুয়ে শুকিয়ে আলমারি বা বাক্সের মধ্যে রাখতে হবে।

১১। বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের পাশাপাশি লেপ, কম্বল, কাঁথা, তোশক এসব খোলা অবস্থায় রাখলে ধুলোবালি জমে ময়লা হয়ে যায়। তাই এগুলো ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করে রাখতে হবে।

১২। দামি কাপড়চোপড় এবং যেসব কাপড় মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা হয়, সেগুলো যত্নসহ আলমারির তাকে বা বাক্সের নিচের দিকে সংরক্ষণ করতে হবে।

১৩। প্রায় সব ঘরেই অতিথিদের জন্য কিছু অতিরিক্ত লেপ, কম্বল, মশারি, চাদর থাকে। এগুলো খোলা জায়গায় রাখলে ইঁদুরে কেটে ফেলতে পারে। তাই রোদে শুকিয়ে পরিষ্কার বস্তায় ভরে মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।

১৪। কাপড়ের গায়ে যেসব ধাতব বোতাম, হুক প্রভৃতি থাকে সেগুলোর কারণে অনেক সময় কাপড়ে মরিচা পড়ার দাগ লেগে যায়। তাই জামাকাপড় সংরক্ষণ করার সময় কাপড়ে লাগানো এসব ধাতব বোতাম, হুক প্রভৃতি খুলে রাখতে হবে।

১৫। অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখলে ভেতরের কাপড় স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় এবং ছত্রাক জন্মাতে পারে। তাই আলমারি, ওয়্যারড্রোব বা যে বাক্সে কাপড় রাখা হবে সেটি যেন আলো-বাতাসপূর্ণ শুকনো স্থান হয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে। 

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...