সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লক্ষীপূজায় থাকুক রকমারি নাড়ু্র বাহার!

লক্ষীপূজায় থাকুক রকমারি নাড়ু্র বাহার!

দেখতে দেখতে চলে এলো লক্ষীপূজা। পূজাকে ঘিরে থাকছে নানা আয়োজন। নাড়ু ছাড়া তো পূজার কথা ভাবা অসম্ভব। আর লক্ষীপূজা মানেই তো নানা রঙের নানা স্বাদের নাড়ু। পূজাকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে তৈরি হবে কয়েক রকমের নাড়ু। আজ আপনাদের জন্য রইল বিভিন্ন রকমের নাড়ুর রেসিপি।
চিত্রঃরকমারি নাড়ু
রকমারি নাড়ু। ছবিঃসংগৃহীত

নারকেল দুধের নাড়ু

উপকরণঃ নারকেল, দুধ , চিনি পরিমানমতো, এলাচগুঁড়ো সামান্য, তেজপাতা ১টি।

চিত্রঃনারকেল দুধের নাড়ু
নারকেল দুধের নাড়ু
প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে নারকেল কুরিয়ে মিহি করে বেটে নিন। এরপর চুলায় চিনি ও সামান্য পানি দিয়ে জ্বাল দিয়ে তারমদ্ধে বাটা নারকেল, তেজপাতা ও এলাচ গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে বাদামি রঙ না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে তারমদ্ধে দুধ দিয়ে আঠা আঠা হয়ে যাওয়া প্রযন্ত নাড়তে থাকুন যেন কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায়। জ্বাল হয়ে গেলে কড়াই চুলা থেকে নামিয়ে তেজপাতা ফেলে গরম থাকতে থাকতে নারিকেলের খামি হাতে নিয়ে গোল গোল করে তৈরি করুন নাড়ু।

নারকেল গুড়ের  নাড়ু

উপকরণঃ নারকেল ২ টি, খেজুরের গুড় ১/২ কেজি, এলাচ গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ, তেজপাতা ১ টি, লবণ ১ চিমটি, দারুচিনির টুকরো কয়েকটি।
চিত্রঃনারকেল গুড়ের নাড়ু
নারকেল গুড়ের নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে নারকেল কুরিয়ে নিন। এবার কোরানো নারকেল ও গুড় ভালো করে মিশিয়ে মিশিয়ে কড়াইয়ে দিন। কড়াই নন-স্টিকি হলে ভালো হয় তাহলে তলায় পোড়া লাগবে না। দারুচিনি, তেজপাতা, এলাচ গুঁড়ো ও লবণ দিয়ে দিন। এরপর কড়াইয়ে ভাজতে থাকুন। সারাক্ষণ নাড়ুন যাতে তলায় লেগে না যায়। ভাজতে ভাজতে নরম ও আঠালো হয়ে গেলে চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে নিন।
তারপর সহনীয় গরম থাকতে থাকতে হাতের তালুতে অল্প ঘি মেখে নারিকেল নিয়ে ছোট বলের মতো গোল আকৃতি দিন। ঠাণ্ডা হলে সংরক্ষণ করুন মুখবন্ধ পাত্রে। চাইলে চাল ভাজার মিহি গুঁড়োতে গড়িয়ে রাখতে পারেন।

চিড়ার নাড়ু

উপকরণঃ  চিড়া ১/২ কেজি, গুড় পরিমানমতো, এলাচ গুঁড়া ৫টি, ঘি ১ টেবিল চামচ।
চিত্রঃচিড়ার নাড়ু
চিড়ার নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ চিড়া ভেজে নিন। গুড়ে সিকি কাপ পরিমাণ পানি ও ঘি দিয়ে চুলায় দিন। ফুটে উঠলে এলাচ গুঁড়া ছেড়ে নাড়ুন। ঘন হলে চিড়া দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চুলা থেকে নামিয়ে হাতে ঘি মেখে দ্রুত ঠাণ্ডা হওয়ার আগেই গোলাকার করে নাড়ু তৈরি করুন।

তিলের নাড়ু

উপকরণঃ তিল ১ কাপ, গুড় ১ কাপ, পানি ও বাদাম ভাজা।
চিত্রঃতিলের নাড়ু
তিলের নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ তিল হাল্কা ভেজে নিন। এরপর চুলায় পানি ও গুড় নাড়ুন। ঘন হয়ে এলে তিল ও বাদাম দিয়ে গরম থাকতে থাকতে খামি হাতে নিয়ে গোল গোল করে নাড়ু বানিয়ে নিন।

চালের নাড়ু

উপকরণঃ চাল ১ কাপ, গুড় দেড় কাপ, নারকেল কোরানো ১ কাপ ও তিল আধা কাপ।
চিত্রঃচালের নাড়ু
চালের নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ চাল ১ চিমটি লবণ ও পানি দিয়ে মাখিয়ে খোলাতে আধা ভাজা করে গুঁড়া করে নিন। তিলও ভেজে নিতে হবে। গুড় সামান্য পানি দিয়ে চুলায় দিয়ে জ্বাল দিন। গলে এলে চালের গুঁড়া, নারকেল ও তিল একসঙ্গে দিয়ে নাড়তে থাকুন। ভালোভাবে মিশে গেলে নামিয়ে পিঁড়িতে ঢেলে তাড়াতাড়ি গরম গরম নাড়ু বানিয়ে নিন। যদি ঠান্ডা হয়ে যায়, তবে আবার একটু গরম করে নিতে হবে।

মোতিচুর লাড্ডু

উপকরণঃ বেসন ১ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, পানি কাপ, চিনি ১ কাপ, পানি ১ কাপ, ঘি ১ টে: চামচ, ফুড কালার পছন্দমতো, তেল ভাজার জন্য।
চিত্রঃমোতিচুর লাড্ডু
মোতিচুর লাড্ডু

প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে বেসন আর বেকিং পাউডার ভাল করে মিশিয়ে ৩/৪ কাপ পানি দিয়ে বেসনটা গুলে ভালো করে মিক্স করে গোলাটা ১ ঘন্টা ঢেকে রাখুন। এরপর গোলা টা ভাগ ভাগ করে একেক ভাগে একেক ফুড কালার মিশান।
এবার একটি প্যানে তেল গরম করে বড়ফুটো ওয়ালা ঝাঁঝরি চামচ (হাতা) এর উপর বেসনের গোলা টা অল্প অল্প করে ঢেলে কম আঁচে ডুবো তেলে বুন্দিয়া গুলো ভেজে তুলুন। এভাবে সব গুলো বুন্দিয়া ভেজে তুলে রাখুন।
এবার আরেকটি প্যানে এক কাপ চিনি ও এক কাপ পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে ঘন সিরা করে নিন। সিরা খুব ঘন হয়ে এলে ভাজা বুন্দিয়া গুলো সিরায় দিয়ে সাথে এক টে: চামচ ঘি দিন এবং ভালো করে নেড়ে চেড়ে নামিয়ে বুন্দিয়া গুলো একটি প্লেটে ছড়িয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর বুন্দিয়া গুলো হালকা গরম থাকতে হাতে সামান্য ঘি লাগিয়ে বুন্দিয়া গুলো মুঠো করে নিয়ে চেপে চেপে গোল লাড্ডু বানিয়ে নিন।

বেসনের লাড্ডু

উপকরণঃ বেসন ৪ কাপ, ঘি ১ কাপ, পাউডার চিনি ২ কাপ, কাজু বাদাম কুচি ১/২ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ।
চিত্রঃবেসনের লাড্ডু
বেসনের লাড্ডু

প্রস্তুত প্রণালীঃ কড়াইয়ে ঘি গরম করে সবটুকু বেসন ঢেলে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। খেয়াল রাখতে হবে, যেন কড়াইয়ের নিচে পুড়ে না যায়। মৃদু আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ভাজার পর বাদাম আর এলাচ গুঁড়া দিতে হবে। সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা হলে তাতে চিনি ছিটিয়ে মেখে নিলে মিশ্রণটি বেশ আঠালো হয়ে উঠবে। এবার হাতে অল্প একটু তেল মেখে ছোট ছোট বল বানিয়ে লাড্ডুর আকার দিন।

**নাড়ু সংরক্ষনের টিপসঃ
  • নাড়ুগুলো চাইলে চাল ভাজার মিহি গুঁড়োতে গড়িয়ে রাখতে পারেন।
  • নাড়ু ঠাণ্ডা হলে কাঁচের বয়ামে ভরে রাখলে নাড়ু ভালো থাকবে দীর্ঘদিন। অথবা সংরক্ষণ করুন মুখবন্ধ পাত্রে।
  • নাড়ু গোল করার সময় হাতে ঘি মাখিয়ে নিন তাড়াতাড়ি হবে এবং হাতে লেগে যাবে না।
  • গুড় জ্বাল দেয়ার সময় কম জ্বাল দিন আর খেয়াল রাখুন যাতে জ্বাল বেশি হয়ে তিতা না হয়ে যায়।
  • প্রতিটি নাড়ু গরম গরম বানানোর সুবিধার জন্য একটি পাত্রে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে মাঝেমধ্যে হাত ভিজিয়ে আবার নাড়ু বানাতে হবে। 
  • নাড়ু বানানোর পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন। সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ # প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তা...

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস

খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস প্রাকৃতিক ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খাবারে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রভাব ইত্যাদি কারণে মানুষের আকার দিন দিন কমে আসছে। যে সকল মেয়েদের উচ্চতা কম তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হীনমন্যতায় ভুগেন।  কম উচ্চতার মেয়েরাও হতে পারেন আকর্ষণীয় ফ্যাশনের অধিকারী। তারা যদি তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নির্বাচনে একটু সচেতন হোন তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে খুব একটা খাটো লাগবেনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক খাটো মেয়েদের জন্য কিছু ফ্যাশন টিপসঃ খাটো মেয়েদের জন্য ফ্যাশন টিপস *  বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রায় এক রঙের পোশাক পড়লে উচ্চতা নিয়ে একটি বিভ্রম তৈরি করে এবং দেখতে বেশি খাটো লাগবে না। এক্ষেত্রে একরঙা পোশাক ব্যবহার করুন।   *  হাই-ওয়েস্ট বা উচ্চ কোমরের নকশার পোশাক যেমন, ট্রাউজার্স, স্কার্টস, হাফপ্যান্ট বেশি হাইয়ের পোশাক। কারন এগুলোতে পা-কে অনেক লম্বা দেখায়। *  উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের চেয়ে লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। *...

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার

কর্নফ্লাওয়ার (বার্লি)'র অজানা ব্যবহার রান্না ছাড়াও কর্নফ্লাওয়ারের রয়েছে আরো অনেক গুণগত ব্যবহার। যেমনঃ কর্নফ্লাওয়ার (বার্লির) অজানা ব্যবহার * কোন কাপড়ে তেলে লেগে গেলে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন, দেখবেন কত সহজে দাগ উঠে গেছে। *  জানালার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় গ্লাস ক্লিনারের পরিবর্তে আট কাপ পানিতে সিকি কাপ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে ব্যবহার করে দেখুন গ্লাস একেবারে চকচকে হয়ে যাবে। * চেইন বা ব্রেসলেটে গিঁট লেগে গেলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে তার পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে গিঁট খোলার চেষ্টা করুন দ্রুত খুলে আসবে। * পোকার কামড়ে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যায়। * চুল তেলতেলে হয়ে থাকলে নির্দিধায় চুলের ওপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নিন। কয়েক মিনিট রেখে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলেই দেখবেন চুল হয়ে উঠেছে একেবারে ঝরঝরে।